হার্টের জন্য রসুনের উপকারিতা - হার্ট ভালো আছে বুঝার উপায়
প্রিয় পাঠক আজকের এই আর্টিকেলে আপনাদের জানাবো হার্টের জন্য রসুনের উপকারিতা এবং হার্ট ভালো আছে বুঝার উপায় সম্পর্কে । আপনারা যদি এই বিষয়ে সঠিক তথ্য না জেনে থাকেন , তাহলে এই আর্টিকেলটি পরে জানতে পারবেন এ বিষয়ে । তাই সঠিক তথ্য জানতে আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ুন ।
মানব দেহের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের মধ্যে হার্ট হলো একটি মেজর পারসন । এই হার্ট এর সমস্যা থাকলে মানুষের বেচে থাকাটা কঠিন হয়ে পরে ।
ভুমিকা
হার্ট মানুষের দেহের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ । মানব দেহের অনন্য অঙ্গ যেমন, হাত - পা, চোখ, কান, চুল ইত্যাদি এসবের যদি কোনো সমস্যা থেকে কিংবা হাত পা যদি নাও থাকে , তবুও কিন্তু একটা মানুষ বেচে থাকতে পারে । কিন্তু মানুষের যদি হার্ট এর সমস্যা থাকে তাহলে সেই মানুষটাকে বাঁচানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পরে ।
মানব দেহের রক্ত সঞ্চালনের একমাত্র মাধ্যম হল হার্ট । যেটাকে বাংলায় বলা হয় হৃদপিণ্ড । এই হৃদপিণ্ডের সমস্যা খুবই মারাত্মক সমস্যা । যা মানুষকে দিন রাত দুশ্চিন্তায় ভুগিয়ে তোলে ।
হার্টের জন্য রসুনের উপকারিতা
জার্নাল অব নিউট্রিশন একটি গবেষণা চালিয়েছিলেন । সে গবেষণাটি করা
হয়েছিল ২০০৬ সালে । গবেষনা করে গবেষকরা জানান যে রসুনের ভেতর একটি
উপকারী উপাদান রয়েছে । যেটাকে বলা হয় এলডিএল । এই এলডিএল
উপাদানটি মানবদেহের অক্সিডেশন কে কমায় । যার কারণে মানবদেহের
হৃদপিণ্ড
সুস্থ থাকে
।
হৃদপিণ্ড সুস্থ এবং ভালো রাখতে রসুন খাওয়ার নিয়ম অর্থাৎ, কিভাবে রসুন খেতে
হবে সে বিষয়ে স্বাস্থ্য বিষয়ক দুইটি টিপস দেওয়া হয়েছে । টিপস দুইটি
হল ঃ
-
মানব দেহের হার্ট অর্থাৎ হৃদপিণ্ডকে সুস্বাস্থ্য রাখার জন্য নিয়মিত রসুন
খাওয়া খুবই জরুরী । কারণ রসুন হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে
। প্রতিদিন সকালে একটি অথবা দুইটি রসুনের কোয়া নিয়ে সেটাকে ছেচে
প্রতিদিন সকালে খেতে হবে । এতে করে হার্ট ভালো থাকবে এবং হৃদরোগ প্রতিরোধ
করতে সক্ষম হবে ।
-
এছাড়ও হৃদপিণ্ড ভালো রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৯০০ গ্রাম রসুনের গুড়া খেতে পারেন
। এবং নিয়মিত এর পাশাপাশি রসুনের সাপ্লিমেন্ট তৈরি করে খেতে পারেন
। তবে রসুনের সাপপ্লিমেন্ট খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে
।
-
নিয়মিত রসুন
খাওয়ার
ফলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে । যা একটি কোলেস্টেরল সৃষ্ট যন্ত্রণাকে
নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে । অতিরিক্ত কোলেস্টেরল হৃদরোগ এর
ঝুঁকি বাড়ায় ।
-
রসুন খেলে হার্ট আর্টের ই ভালো থাকে । এর কারণে আরটারই
স্টেফনেস কমিয়ে দেয় এবং আচ্ছন্নতা কমাতে সাহায্য করে ।
-
রসুন খাওয়া ফলে ইনফ্লামেশনের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় । রসুনের
ভেতর অনেক পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে যা ইনফ্লেমেশনের নিয়ন্ত্রণ করে ।
-
রসুনকে একটি শক্তিশালী খাবার হিসেবে ধরা হয়, যার ফলে স্বাস্থ্যের
সাহায্য করে ।
-
নিয়মিত রসুন খেলে ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে থাকে ।
হার্ট ভালো আছে বুঝার উপায়
মানুষের শরীরের মধ্যে হার্ট একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ । যার
দ্বারা সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালিত হয়ে থাকে । এ হার্ট মানব দেহের
ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণ করে । এবং দেহে রক্ত সঞ্চালিত এবং প্রসারিত
করাই হলো হার্ট এর প্রধান কাজ । তো একজন রোগী কিভাবে বুঝবে যে তার
হার্ট ভালো আছে । চলুন জেনে নেওয়া যাক ।
ডা. শরিফা শারমিন এর কথা অনুযায়ী কোন মানুষের যদি হার্টের সমস্যা হয় যেমন, হার্ট অ্যাটাক, কার্ডিয়াক ব্লাড সার্কুলেশন , অতিরিক্ত রক্তচাপ এবং ব্রেইন স্টক । কোন মানুষের যদি এসব সমস্যা দেখা যায় তাহলে বুঝতে হবে তার হার্টের সমস্যা হয়েছে । কারণ হার্টের সমস্যা হলে প্রতিনিয়ত এই সমস্যাগুলো দেখা যায় ।
ডা . শরিফা শারমিন এর কথা অনুযায়ী হার্ট সুস্থ সকল এবং ভালো রাখার জন্য ব্যালান্সড লাইফ স্টাইল প্রয়োজন । ব্যালেন্স লাইফ স্টাইল এর মানে হলো একজন মানুষ নিয়মিত খাবার খাচ্ছে কিনা সেটা । একজন মানুষ খাবার সময় মানসম্মত স্বাস্থ্যকর খাবার খাচ্ছে কিনা । যদি নিয়মিত সঠিকভাবে খাবার খাওয়া না হয় তবে শরীরে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পায় ।
আর এই কোলেস্টেরল বৃদ্ধির কারণে হৃদরোগের সমস্যা দেখা দেয় । এসব সমস্যা
থেকে সমাধান পেতে নিয়মিত সঠিক সময়ে খাবার খেতে হবে । এবং খাবার খাওয়ার
সময় স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে । এবং হার্ট ভালো আছে কিনা সেটা বোঝার
আরেকটি উপায় হল ওজন ঠিকঠাক আছে কিনা সেটা । কারণ ওজন অতিরিক্ত হয়ে গেলে
হার্টের সমস্যা দেখা দেয় ।
অতিরিক্ত ওজন হয়ে গেলে শরীরে চর্বি জমাট বাঁধে । আর এই চর্বি যদি হার্টে
জমা হয় তাহলে হার্ট ব্লক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে । এই হার্ট ব্লক থেকে
হার্ট অ্যাটাক হতে পারে, এবং একজন মানুষ মৃত্যুবরণ করতে পারে এ হার্ট অ্যাটাকের
কারণে ।
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে প্রতি এক মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ পর্যন্ত
হার্ট বিট চলাচল করে । অর্থাৎ হৃদ স্পন্দন হয় মিনিটে ৬০ থেকে ১০০
পর্যন্ত । শারীরিক এবং মানসিক চাপের কারনে হৃদ স্পন্দন বেশি হয় । এছাড়াও মাথা ঝিম
ঝিম করা এবং অতিরিক্ত ঘাম হওয়া হার্টের সমস্যার লক্ষন ।
কেও যদি এসব সমস্যা অনুভব করতে পারে তবে তাকে বুঝতে হবে তার হার্টের সমস্যা হয়েছে ।
হার্ট দুর্বল হলে কি খাওয়া উচিত
হার্ট ভালো রাখতে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে । কারন অপুষ্টি কর খাবার খেলে শরীরে অনেক পুষ্টি ও ভিটামিনের ঘাটতি থেকে যায় । যার কারনে শরীর দুরবল হয়ে যায় এবং নানা ধরনের রোগ হয় । তার মধ্যে একটি হল হৃদরোগ জনিত সমস্যা । অর্থাৎ হার্টের সমস্যা । তাই হার্ট ভালো রাখতে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে ।
আরও পড়ুন ঃ খাওয়ার কতক্ষন পর ব্যায়াম করা উচিত বিস্তারিত জানুন।
শরীরে ভিটামিনের পর্যাপ্ত চাহিদা যদি অপূর্ণ থেকে যায় তাহলে শরীর ক্রমশই দুর্বল হয়ে পরে । তাই হার্ট ভাল রাখতে ৫ টি পুষ্টিকর খাবারের কথা এখানে উল্লেখ করা হয়েছে ঃ
আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া
যেসব খাবারে প্রচুর প্রচুর পরিমাণ ক্যালরি এবং ভিটামিন থাকে যেমন মাছ মাংস এসব খাবার নিয়মিত খেতে হবে । এবং যেসব খাবারে প্রচুর আঁশ এবং ফাইবার রয়েছে সেসব খাবার গ্রহণ করতে হবে নিয়মিত । এসব খাবার নিয়মিত খেলে শরীরে স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়ার জন্ম হয় । যা শরীর স্বাস্থ্য সুস্থ রাখতে সাহায্য করে ।
চর্বি জাতীয় খাবার না খাওয়া
যেসব খাবার খেলে চর্বি হতে পারে সেসব খাবার না খাওয়া উচিত । কারণ ফ্যাট
জাতীয় খাবার খেলে শরীরে চর্বি জমাট বাঁধে এবং ওজন বৃদ্ধি পায় । আর এ কারণে
হার্টের সমস্যা দেখা দেয় । ফ্যাট জাতীয় খাবার
যেমন, দই, মাংস, মাখন, কেক, ঘি এসব চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়া
কমিয়ে দিতে হবে ।
লবন খাওয়া কমাতে হবে
অনেক মানুষ রয়েছে খাবারের সাথে আলাদা করে কাচা লবন খেয়ে থাকে । এই ভাবে লবন খেলে শরীরের অনেক ক্ষতি হয় । তাই এই ভাবে লবন খাওয়া বন্ধ করতে হবে ।
ফলমুল খাওয়া
ফলে রয়েছে অনেক ভিটামিন এবং পুষ্টি । যা শরীরের ভিটামিনের চাহিদা পুরন করে দেয় । শরীর সুস্থ এবং সতেজ রাখে । তাই নিয়মিত ফল খেতে হবে ।
শাক সবজি
খাবার সময় অন্তত পক্ষে শাক অথবা সবজি রাখতে হবে। কারন শাক সবজিতে অনেক পরিমানে ভিটামিন এবং ক্যালরি রয়েছে । এই ক্যালরি আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে । এবং ব্রেইন সান্ত ও সতেজ রাখে।
হার্টের জন্য ক্ষতিকর খাবার
হার্ট সুস্থ রাখতে অবশ্যয় পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি । আমরা অনেক খাবার খেয়ে থাকি কিন্তু জানিনা যে কোন খাবার টা পুষ্টিকর এবং কোন খাবার টা অপুষ্টি কর খাবার । কোনটা সাস্থকর খাবার এবং কোনটা অসাস্থকর খাবার সেটা আমরা জানিনা বলেই আমরা অনেক রোগের সম্মুক্ষিন হয়ে পরি ।
আমরা সবসময় সুস্বাদু খাবার পছন্দ করি । সকল সুস্বাদু খাবারই কিন্তু আমাদের জন্য উপকারী নয় । অনেক খাবার আমাদের জন্য ক্ষতিকর । খাবারের কারণে অনেক সময় অনেক রোগে আক্রান্ত হয়ে যায় । তার মধ্যে একটি হলো হার্টের সমস্যা । অসাস্থকর খাবার এবং অপুষ্টিকর খাবার খাওয়ার কারণে হাটের সমস্যা হতে পারে ।
খাবার সুস্বাদু হলেও কয়েকটি খাবার আমাদের ক্ষতি ডেকে নিয়ে আসে । এসব খাবার
খাওয়ার কারণে অনেক সমস্যা এবং রোগে আক্রান্ত হয়ে যায় । জেনে নেওয়া যাক
ক্ষতিকর খাবারগুলো কি কি ঃ
-
কলিজা, মগজ, এবং হাড়ের মজ্জা । এ খাবার গুলোতে অনেক
কোলেস্টেরল থাকে । যা হৃদ রোগের ঝুঁকি বাড়ায় । তাই এসব খাওয়ার
থেকে বিরত থাকতে হবে ।
-
ফাস্টফুড যেমন, বার্গার,দই, পিজ্জা, জুস ইত্যাদি । এসব খেলে হার্টের
সমস্যা দেখা যায় ।
-
চর্বি জাতীয় খাবার যেমন ঘি, মাখন, ডালডা, এসব খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে
।
- ভাজা পোরা খাবার খাওয়া বন্ধ করতে হবে । কারন এসবে অনেক ক্ষতি করে ।
- কেক , প্রেস্তি, পুডিং এসব ফ্যাট জাতীয় খাবার । এসব থেকে বিরত থাকতে হবে ।
হার্টের সমস্যা সমাধানের উপায়
হার্টের সমস্যা থেকে সমাধান পেতে হলে অবশ্যয় কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলতে হবে । তা নাহলে হার্ট সুস্থ রাখা সম্ভব নয় । তাই কয়েকটি উপায় রয়েছে হার্ট ভালো রাখার । সে উপায় গুলো হল ঃ
নিয়মিত বেয়াম
নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীর সুস্থ থাকে এবং বডি ফিটনেস ভালো থাকে । আর
নিয়মিত ব্যায়াম করার কারণে অনেক ধরনের রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় । তার
মধ্যে একটি হলো হৃদরোগ । নিয়মিত ব্যায়াম করার কারণে শরীরের পেশিগুলো
ঠিক থাকে এবং রক্ত চলাচল ভালোভাবে হয় । আর রক্ত সঞ্চালন ঠিকঠাক ভাবে থাকার
কারণে হার্ট ভালো থাকে ।
নিয়মিত শাক সবজি খাওয়া
সবজি তো রয়েছে অনেক পরিমাণ ভিটামিন, পুষ্টি এবং কালোরি । যা শরীরের ভিটামিনের অভাব পূরণ করে এবং শরীর স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে । শাকসবজি খাওয়ার কারণে দেহের কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পায় না এবং শরীর সুস্থ থাকে । তাই নিয়মিত শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে ।
দূষিত বায়ু থেকে দূরে থাকুন
আমাদের আশেপাশে অনেক ময়লা আবর্জনা পড়ে থাকে । এসব থেকে অনেক দুর্গন্ধ তৈরি
হয় এবং তা বাতাসের সঙ্গে মিশে যায় । আর এ বাতাসের সঙ্গে মিশে যাওয়ার
কারণে আমাদের শ্বাস নিতে সমস্যা হয় ।শ্বাস প্রশ্বাস ঠিকঠাক ভাবে নিতে না পারার
কারণে হার্টের সমস্যা দেখা দেয় ।
ফ্যাট জাতীয় খাবার
ফ্যাট জাতীয় খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে । কারণ এসব খাবার খেলে শরীরে অনেক
সমস্যা হয় এবং অনেক রোগের সৃষ্টি হয় । ফ্যাট যুক্ত খাবার খাওয়া বন্ধ করতে
হবে এবং স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করতে হবে ।
অধিক ঘুম
অনেক মানুষ রয়েছে যারা ঘুমাতে ভালোবাসে । এসব মানুষ হার্টের রোগীর
অন্তরভুক্ত হয়ে যায় । কারণ অতিরিক্ত ঘুমালে শরীর খারাপ করে এবং শরীর ঝিমঝিম
করেও মাথাব্যথার সৃষ্টি হয় । এছাড়া অতিরিক্ত ঘুমের কারণে হৃদরোগ জনিত
সমস্যা হয় । তাই অতিরিক্ত ঘুম থেকে বিরত থাকতে হবে ।
আরও পড়ুন ঃ চুলের যত্নে জয়তুন তেল - জয়তুন তেল চেনার উপায় ।
লেখকের মন্তব্য
প্রিয় পাঠক আশা করি এই আর্টিকেলটি পড়ে হার্টের জন্য রসুনের উপকারিতা- হার্ট ভালো আছে বোঝার উপায় সম্পর্কে জানতে পেরেছেন । হট মানবদেহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ । আমাদের সকলের উচিত সুস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং হার্টের যত্ন নেওয়া । আর্টিকেলটি থেকে যদি উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে আশা করি অবশ্যয় সেয়ার করবেন ।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url